পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনগণনার দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এ দুই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ‘অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না’, ‘ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে’সহ ভোট পুনগণনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। কার্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়। এ সময় পরাজিত দুই প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানান। তারপর সেখান থেকে তারা বের হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে যান।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন জানান, নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। অযথা আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। তাই আমি পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি পুনরায় ভোট গণনা করা হলে আমি জয়ী হব। একই দাবি জানান পাবনা-৪ আসনে বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানান, জেলা প্রশাসক দুই প্রার্থীর আবেদন ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আপাতত নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোন বিষয় এখানে নেই।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল বিজয়ী হোন। আবু তালেব মন্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
পাবনা-৩ আসনে ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে বিজয়ী হোন জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার। মাওলানা আলী আজগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির তুহিন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।