ভোলার দৌলতখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার চরভাতা ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে ওই ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. মুরাদ চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন মসজিদ থেকে বের হয়। এখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেই মসজিদের সামনে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বিএনপির কিছু লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় মুরাদ চৌধুরী গুরুতরভাবে আহত হন। তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং এতে মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা দুজনের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে সটকে পড়েন হামলাকারীরা। এরপর তারা আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মুরাদ জানান, তারা মসজিদ থেকে বের হয়ে আসতে তাদের ওপরে হামলা চালায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন, জসিম, হাফেজ, লিংকন পণ্ডিত, রিয়াজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জন।
তবে হামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ওই আসনের বিএনপির নির্বাচন প্রধান সমন্বয় আকবর হোসেন দাবি করেন, এমন একটি নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সংঘর্ষ বা কারও ওপর হামলার মতো কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
যদিও ঘটনার খবর পেয়ে নৌবাহিনী কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।