নিজ দলের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজারে দাঁড়িপাল্লা মার্কার এক নির্বাচনি সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
বিএনপি নেতা পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এসব বিএনপি নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দেন।
জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল হক ভুলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছৈয়দ এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ।
এছাড়া পালংখালী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী উখিয়া–টেকনাফ-৪ সংসদীয় আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীর হাত ধরে জামায়াতে ইসলামে যোগ দেন।
নির্বাচনি সভায় বক্তব্যে নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে আসছে। নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমেই সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হওয়া জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক শান্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে কাজ করতে হবে।
এ সময় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন জেলা জামায়াতের আমির।
দলত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন। পালংখালী ইউনিয়নে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও চাপ প্রয়োগের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এসব কারণেই তারা নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহজালাল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
এ সময় নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, গফুর উদ্দিন চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী আওয়ামী লীগ আমল থেকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। তিনি দাবি করেন, যারা জামায়াতে যোগদান করেছেন তারা গফুর উদ্দিনের কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। সংখ্যায় তারা সর্বোচ্চ ১৫ জন হতে পারেন। চাঁদাবাজির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিএনপির নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ চারটি শর্ত তিনি তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে এসব শর্ত পূরণ হলে তিনি বিএনপির মঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু শর্তগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি জামায়াতের মঞ্চে ওঠেন।
তিনি আরও বলেন, যারা যোগদান করেছেন তারা সবাই স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার কোনো কর্মচারী নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকেন, কোনো দলীয় পরিচয় তার মূল পরিচয় নয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিমুক্ত রাজনীতি চায়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই মানুষ স্বেচ্ছায় জামায়াতে ইসলামে যোগ দিয়েছে।